লং মার্চের নামে পিকনিক, জনগণের কষ্টার্জিত জ্বালানি অপচয় হয়েছে: ইশরাক
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
০৯-০৯-২০২৬ ০৪:৫৫:৪৬ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
০৯-০৯-২০২৬ ০৪:৫৫:৪৬ অপরাহ্ন
ছবি: সংগৃহীত
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন বলেছেন, বিরোধী দলের সাম্প্রতিক লং মার্চের নামে কয়েক শ গাড়ি নিয়ে রোডশো করা হয়েছে। এতে জনগণের কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময়ে আমদানি করা জ্বালানির অপচয় হয়েছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কে এম দাস লেনের রোজ গার্ডেন পুকুরে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্তকরণ ও গাছ রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ৩৯ নম্বর ওয়ার্ড ও ওয়ারী থানা বিএনপি-ঢাকা মহানগর দক্ষিণ এ কর্মসূচির আয়োজন করে।
ইশরাক হোসেন বলেন, ‘লং মার্চ করতে হলে একটা পরিস্থিতির প্রয়োজন হয়। দেশে একটা সেই ধরনের সংকটের প্রয়োজন হয় এবং সেখানে গণমানুষের পার্টিসিপেশনের মাধ্যমে পায়ে হেঁটে হাজার হাজার, শত শত কিলোমিটার গিয়ে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করে যে আন্দোলনের প্রেক্ষাপট রচনা করা হয়, সেটিকে বলে লং মার্চ।’
তিনি বলেন, ‘আমরা দেখলাম তারা বেশ কিছু ভাড়া গাড়ি নিয়ে দামি দামি গাড়ি নিয়ে এসি গাড়িতে করে একটা পিকনিকে গেল, একটা রোডশো করল। এই রোডশো করার মাধ্যমে তারা আসলে কী অর্জন করতে চেয়েছে, সেটি তো আমি জানি না। তবে অবশ্যই তারা জনগণের কষ্টে অর্জিত যে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময়ে আমরা আমদানি করে থাকি, সেই আমদানিকৃত জ্বালানির অপচয় করেছে, অপব্যয় করেছে। রাষ্ট্রের সম্পদ তারা নষ্ট করেছে এটাই বাস্তব, প্রকৃত সত্য।’
গ্যাস সংকট প্রসঙ্গে ইশরাক হোসেন বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে কাতারের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি গ্যাস আমদানির চুক্তির আওতায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে আসা জাহাজ চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে গ্যাসের সরবরাহ কমে সংকট তৈরি হয়েছে।
তিনি দাবি করেন, বিগত সরকারের আমলে বিভিন্ন বড় গ্রুপকে সিলিন্ডার গ্যাসের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল এবং ওই ব্যবসার মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট ও পাচার করা হয়েছে।
বিরোধী দলের সমালোচনা প্রসঙ্গে ইশরাক বলেন, তারা গঠনমূলক সমালোচনা ও পরামর্শের মাধ্যমে জ্বালানি সংকট সমাধানে এগিয়ে আসতে পারত। কিন্তু তারা নানা ধরনের অভিযোগের তীর ছুড়ে চলেছে।
গুম ও মানবাধিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিগত ১৭ বছর বিএনপি আন্দোলন করতে গিয়ে মানবাধিকার লঙ্ঘন, গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডসহ নানা অত্যাচার-নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এ সংক্রান্ত আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়ার পর বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা ওয়াকআউট করে চলে গেছেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আরমানের বক্তব্য প্রসঙ্গে ইশরাক বলেন, ‘ব্যারিস্টার আরমান অনেকক্ষণ অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে, তাঁর ইমোশন দিয়ে কথা বললেন। আমরাও সেটাকে অনুভব করি।’
বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে বিএনপি সরকারের কোনো পদক্ষেপ নেই—এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সরকার দুবাইয়ের একটি ল ফার্মকে নিয়োগ দিয়েছে। বেনজীর আহমেদকে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই হবে।
ইশরাক আরও বলেন, বিগত ১৭ বছরে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দেশের অর্থনীতি ও বিভিন্ন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাতারাতি সেই অবস্থা থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়।
বিএনপির নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, জনগণের সেবা করাই তাঁদের প্রধান কাজ। মাদক, চাঁদাবাজি, ফুটপাত দখল করে চাঁদা আদায় কিংবা অন্যের জমি দখলের মতো কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না।
আওয়ামী লীগের সমর্থকদের হয়রানি না করার আহ্বান জানিয়ে ইশরাক বলেন, আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে নিষিদ্ধ দল হলেও তাদের সমর্থকদের বাংলাদেশের জনগণের বাইরে বের করে দেওয়া হয়নি। নিরীহ আওয়ামী লীগ সমর্থক বা ভোটার পরিবারের ওপর জোর-জবরদস্তি, অর্থ আদায় কিংবা ভয়ভীতি দেখানো হলে বিএনপির সঙ্গে আওয়ামী লীগের পার্থক্য থাকে না।
তিনি বলেন, যারা গণহত্যার সঙ্গে যুক্ত ছিল, বিএনপি নেতা-কর্মীদের নির্যাতন করেছে, ব্যবসা-বাণিজ্য লুটপাট ও দখল করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে নিরীহ সমর্থকদের হয়রানি করা যাবে না।
ঢাকা শহরকে মাদক, ময়লা, মশা ও যানজটমুক্ত করে পরিচ্ছন্ন নগরী হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন ইশরাক। তিনি বলেন, পদে থাকা না থাকা বড় বিষয় নয়; জনগণের সন্তান, ভাই ও সহযোদ্ধা হিসেবে তিনি কাজ করতে চান।
নিজের কর্মকাণ্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর তাঁর আরও সক্রিয় হওয়া প্রয়োজন ছিল। সংসদ ও মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বের পাশাপাশি এলাকার বিষয়গুলোর মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করতে তাঁর কিছুটা সময় প্রয়োজন হয়েছে। আগামী দিনে আরও ভালো করার জন্য তিনি সবার পরামর্শ ও সহযোগিতা চান।
অনুষ্ঠানে বিএনপি-ঢাকা মহানগর দক্ষিণের যুগ্ম আহ্বায়ক ফরহাদ হোসেন, ওয়ারী থানা বিএনপির ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক সাব্বির আহমেদ আরিফ, যুগ্ম আহ্বায়ক মোজাম্মেল হক মুক্তা, গোলাম মোস্তফা সেলিম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ মুকিতুল আহসান রঞ্জু, ওয়ারী থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ মাসুদ রেজা সুমন ও তবারক হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ওয়ারী থানার ৩৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি গোলাম মোহাম্মদ বুলবুল।
বাংলা স্কুপ/প্রতিবেদক/এইচবি/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স